প্রতারক রোকনুজ্জামান ফেণীতে আটক

 বাংলাদেশ রেলওয়েরতে চাকুরী দেয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে প্রতারক চাঁদপুর মিশন রোড ৬ নম্বর গেইটের গেইটম্যান রোকনুজ্জামানকে ফেণীতে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় বিজ্ঞ বিচারক জেলহাজতে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেণীতে দায়ের করা মামলার বাদী মোঃ সুমন মজুমদার।

প্রতারক রোকনুজ্জামান ফেণীতে আটক


চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে কাঁচ্চা কলোনীর বাসিন্দার মুকলেছুর রহমানের ছেলে রোকনুজ্জামান অস্থায়ীভাবে রেলওয়ে গেইটম্যান হিসেবে বড় স্টেশন সড়কের তেলের ডিপোতে গেইটম্যানের চাকরি করতো। মামলা করে সে চাকুরি স্থায়ী করে নেয়। স্থায়ী করে সে চাকুরী দেয়ার নামে শুরু করে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা। প্রতারণা করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। ফেনীর ভুক্তভোগী মোঃ সুমন মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন আমরা যে ক’জন ভুক্তভোগী চাকুরির আসায় রোকনুজ্জামানকে টাকা দিয়েছিলাম, আমরা বহুবার চাঁদপুরে গিয়ে দেন-দরবার করেও আমাদের দেয়া অর্থ তার কাছ থেকে আদায় করতে পারিনি। সর্বশেষ চাঁদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর অ্যাড. হেলাল হোসাইনের ব্যক্তিগত অফিসের দ্বিতীয়তলায় বসেও দেন-দরবার করলে রোকনুজ্জামান আমাদেরকে টাকা দিবে বলেও আর টাকা ফিরিয়ে দেয়নি। পরবতীতে নিরুপায় হয়ে ২০২০ সালের ২৫ মে আমি ১৭ লাখ টাকা প্রতারণার দায়ে রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফেণীর আদালতে মামলা দায়ের করি। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে গত ৪ মার্চ সে আদালতে জামিন নিতে আসলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। তিনি আরো জানান, শুধু আমিই নই, আমার মতো অনেকের কাছ থেকে চাকুরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

চাঁদপুর, লাকসাম, নোয়াখালী ও ফেনির অনেক মানুষের কাছে চাকুরি দেবার কথা বলে অনেক টাকা হতিয়ে নিয়েছে রোকনুজ্জামান। লাকসাম অবসরপাপ্ত হেড ট্রলিম্যান মোঃ সামসুদ্দিনের ছেলেকে ২০১৪ সালে ৮৬৫ খালাশী নিয়োগে চাকুরী পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় রোকনুজ্জামান। রোকনুজ্জামান চাকরি দিতে না পারলে তার কাছে টাকা ফেরত চাইলে অনেক অজুহাত দেখাতে শুরু করে। এভাবে অনেক দিন কেটে গেলে লাকসাম বেতন নিতে গেলে তাকে আটক করে। পরে রেলওয়ে লোকজন ও শ্রমিক লীগের নেতাদের সামনে ৪ মাস সময় নিয়ে মুচলেকা দিয়ে পার পায়। যদি না পরিশোধ করে আইনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার সিদ্বান্ত হয়। রোকনুজ্জামান একই কৌশলে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন সড়কের ফারুক মোরশেদের কাছ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০১৭ বুকিং সহকারী গ্রেড ২ পদে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে নগদ ২ লক্ষ টাকা নেয়। তার চাচা মোস্তফা কামাল পাশা পিন্টুর ঢাকা পুবালী ব্যাংকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন শাখার হিসাব নম্বর ০৮৫২১০১১২২২০৩-এ একাউন্টে ২০১৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আরো এক লাখ টাকা নেয়। তার ৩ দিনপর ২১ সেপ্টেম্বর আরো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেয় একই ব্যাংকের হিসাব নাম্বারে। কিন্তু পরবতীতে উক্ত পরীক্ষার কোনো প্রবেশ পত্র ফারুক মোরশেদকে দেয়নি রোকনুজ্জামান।

বহুবার তাগাদা করলে মোঃ রোকনুজ্জামান রাজশাহী পাঠিয়ে প্রবেশ পত্র আনতে বলে। যার রোল নং চাঁদ/১৫৮১। কিন্তু চাকুরি না হলে টাকা ফেরত চাইলে কয়েক দিন সময় দিয়ে ঘুরাতে থাকে। রোকনুজ্জামানকে ২ বার দু’খানে দরবার বসনো হলে টাকা নেয়ার কথা সে স্বীকার করে শালিসদ্বারদের কাছে সময় চেয়ে নেয়। আর সময়মতো সে টাকা পরিশোধ না করে ফারুক মোরশেদকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে । মোঃ ফারুক মোরশেদ উপায়ান্ত না পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় রোকনুজ্জামানের নামে গত ১৪ নভেম্বর চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করে। রোকনুজ্জামান চাকরি দিতে না পারলে ফেনীর সুমন মজুমদার টাকা ফেরত চাইলে দেখা করার কথা বলে হুমকি ধমকি দেয়। অবশেষে  রোকনুজ্জামানের নামে ফেনীতে প্রতারনার মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গত ৪ মার্চ রোকনুজ্জামান আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। এ ব্যাপারে রোকনুজ্জামানের পারিবারিক মোবাইল নম্বর ০১৯১৫০৬৭৮৯৪ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী বলেন, আপনারা সবই জানেন। আমি ২টি সন্তানকে নিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছি। আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।


This is a very helpful website. We can find our needy post or tips from this site . I think it is essential for us.